২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৪১

সমবায় মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পারে- প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমবায় মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পারে। একটি বাড়ি একটি খামার একটি কার্যকর প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে হাজার হাজার মানুষ দারিদ্র্যের অতি দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে। অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছে।

গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৭তম জাতীয় সমবায় দিবস এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৬ ও ২০১৭ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সস্মানিত সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ মশিউর রহমান রাঁঙ্গা এমপি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ মশিউর রহমান রাঁঙ্গা এমপি, সমবায় অধিদপ্তরের সস্মানিত নিবন্ধক ও মহাপরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল মজিদ ও বাংলাদেশ সমবায় ইউনিয়নের সস্মানিত সভাপতি জনাব শেখ নাদির হোসেন লিপু।

গ্রামীণ জনপদ থেকে দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্যে ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় ৮৭ হাজার গ্রামে ৮২ হাজার ৩৯৫টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠিত হয়েছে। উপকারভোগী সদস্য পরিবার ৩৮ লাখ ৮১ হাজার ২৪০টি। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা নিয়ে এ প্রকল্পের উপকারভোগীরা ক্রমান্বয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। আমরা দরিদ্র জনগণের জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকও প্রতিষ্ঠা করেছি।

একমাত্র সমবায়ের মাধ্যমেই দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সমবায়কে আমাদের সংবিধানের অর্থনৈতিক নীতিমালায় সংযুক্ত করে গেছেন, সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদে। তিনি বলেন, সমবায় ছিল জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার। তিনি কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিল্প উদ্যোগ, কৃষিঋণসহ সব ক্ষেত্রেই সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা প্রসারিত করতে চেয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে সমবায়কে স্থান দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কৃষি সমবায় সমিতি এবং মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠন করেন। তিনি তাঁতি সমবায় সমিতি ও শিল্প সমবায় সমিতি গড়ে তোলেন। আজ বাংলাদেশের অন্যতম সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা জাতির পিতার হাতেই গড়া।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমবায় একটি সম্ভাবনাময় শক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার সমবায় সমিতি রয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ এবং মোট কার্যকরী মূলধনের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

কৃষিভিত্তিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষিভিত্তিক গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছিল বলেই তার সুফল আজকে দেশবাসী পাচ্ছে, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, তরিতরকারি উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, ফলমূল উৎপাদনে চতুর্থ এবং আলু উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম স্থান অধিকার করে আছে।

এ সময় দেশে অধিক হারে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উৎপাদিত খাদ্যশস্যকে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করতে পারলে বাজারজাতের সুবিধা হবে, আবার বিদেশে পাঠানো যাবে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে আমাদের দেশে কোনো মানুষ আর দরিদ্র থাকবে না।

আমরা দরিদ্রের হার ইতোমধ্যে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দারিদ্রের হার ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি এবং আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আরো ৪ থেকে ৫ ভাগ দারিদ্র্য আমরা বিমোচন করতে চাই। যাতে বাংলাদেশকে দরিদ্র বলে আর কেউ অবহেলা করতে না পারে, করুণা করতে না পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের যে ধারাটা আজকে আমরা সৃষ্টি করেছি সেই ধারাটা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলবো, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো। এটাই আমাদের লক্ষ্য

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমবায় বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমবায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় দুই বছরে ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ২০ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমবায় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*