২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৫৯
সমবায়ী ফিরোজ মিয়া

সফল সমবায়ী ফিরোজ মিয়া

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলাধীন  বৌলতলী ইউনিয়নভূক্ত নওপাড়া গ্রামের একটি ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারে ফিরোজ আলম মিয়ার জন্ম। ১৯৭৫ সালে তিনি স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করেন। আর্থিক দৈন্যতার কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে না পারায় তিনি ১৯৭৮ সালে নওপাড়া      গ্রামে ২০ জন কৃষক নিয়ে ‘নওপাড়া কৃষক সমবায় সমিতি গঠন করেন। সমিতি গঠনের পর থেকেই তিনি সদস্যদের নিয়মিত সাপ্তাহিক সভায় অংশ গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। তিনি সদস্যদের নিয়মিত সঞ্চয় জমা ও সমিতির শেয়ার ক্রয়েও সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বের কারণে নওপাড়া কৃষক সমবায় সমিতিটি আজ গ্রামের সকলের নিকট উন্নয়ন দিকপাল হিসেবে পরিগনিত।

তিনি বিআরডিবি হতে বিভিন্ন সময়ে দক্ষতা উন্নয়ন, আয়বৃদ্ধিমূলক, হিসাবরক্ষণ, সমাজ সচেতনামূলক ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণোত্তর সহায়তা হিসেবে তিনি ঋণ গ্রহণ করে কৃষিকাজে বিনিয়োগ করতেন। নব্বই দশকের শেষভাগে এসে বিআরডিবির মাঠ কর্মীর উৎসাহে ও মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ চাষেও মনোনিবেশ করেন।        শুরুতে তিনি  নিজের বাড়ির সামনে হাজামাজা পুকুরটি পরিস্কার ও পুণঃ খনন করে তাতে রুই জাতীয় মাছ চাষ শূরু করেন। প্রথম বছরই তিনি মাছ চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হন। তিনি আশেপাশের হাজামাজা পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করতে থাকেন এবং সফল মৎস্য চাষী হিসেবে মৎস্য বিভাগ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেন।    বর্তমানে তাঁর আবাদি জমির পরিমান ৪ একর ও মাছ চাষের জন্য লিজসহ ০২ একর পুকুর আছে। কৃষি কাজ ও মাছ চাষ হতে তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৩,৫০.০০০/টাকা। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তারা সকলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

তিনি এলাকার একজন সফল কৃষক ও মৎস্যজীবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বের কারণে নওপাড়া কৃষক সমবায় সমিতির বর্তমান মূলধন প্রায় ৮লক্ষ টাকা। এ টাকা দিয়ে সমিতির নামে ৫০ শতাংশের একটি পুকুর ১০ বছরের জন্য লিজ নেয়া হয়েছে। পুকুরে মাছ চাষ করে লভ্যাংশ  তিনি সমিতিকে দিয়ে থাকেন। এছাড়া সমিতির টাকা সদস্যদের প্রয়োজনে স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়।

তিনি তিনবার ইউসিসিএ লিঃএর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সমবায়ীদের সেবার ব্রত পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ট অবদান রাখছেন। ফিরোজ মিয়ার পরিবার এখন স্বচ্ছল এবং সমাজে সকলেই পরিশ্রমী ও সফল মানুষ হিসেবে তাঁকে সস্মানের চোখে দেখে। ২০১০ সালের পর থেকে ফিরোজ মিয়া নিজে ঋণ গ্রহণ করেন না। এ সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি আজ বিআরডিবি‘র গ্রাজুয়েট সদস্য আর গ্রামের সবার কাছে সমবায়ীদের কান্ডারি।

সৌজন্যেঃ-বিআরডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৪-২০১৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*